টাঙ্গুয়ার হাওর

টাঙ্গুয়ার হাওর সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা ও তাহিরপুর উপজেলার মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত।স্থানীয় লোকজনের কাছে টাঙ্গুয়ার হাওরটি নয়কুড়ি কান্দার ছয়কুড়ি বিল নামেও পরিচিত। এটা বাংলাদেশের দ্বিতীয় রামসার স্থান, প্রথমটি সুন্দরবন ।এই হাওরের আয়তন ৬৩১২ একর। তবে বর্ষাকালে এই হাওরটির আয়তন দাঁড়ায় প্রায় ২০০০০ একর। অপরুপ সৌন্দযে সজ্জিত এই হাওরটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তর মিঠাপানির জলাভুমি। নীল আকাশ,জলাবন,অথৈ পানি,পাহাড় ও চোখ জুড়ানো সবুজ এই হাওড় টিকে অপরূপ সাজে সাজিয়েছে।ভারতের মেঘালয়ের খাসিয়া,জৈন্তা পাহাড়ের পাদদেশে সারি সারি হিজল-করচের শোভিত।এখান থেকে মেঘালয় পাহাড় গুলো দেখা যায়।মেঘালয় থেকে ছোট বড় প্রায় ৩০টি ঝর্না ও ছড়া টাঙ্গুয়ার হাওরে এসে মিশেছে।টাঙ্গুয়ার হাওর প্রকৃতির অসীম দানে সমৃদ্ধ।হিজল করচের দৃষ্টি নন্দন সারি এ হাওররের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে। এ ছাড়াও দুধিলতা,হেলঞ্চা, নীল শাপলা, , শীতলপাটি, পানিফল, শোলা, শতমূলি, স্বর্ণলতা,নলখাগড়া, বনতুলসী ইত্যাদি সহ দুই শতের প্রজাতিরও বেশী গাছগাছালী রয়েছে এ অঞ্চলে।পাখিদের কলকাকলি মুখরিত টাঙ্গুয়ার হাওর মাছ, পাখি এবং অন্যান্য জলজ প্রাণীর এক বিশাল অভয়াশ্রম।এই হাওর শুধু একটি জলমহাল বা মাছ প্রতিপালন, সংরক্ষণ ও আহরণেরই স্থান নয়। এটি একটি মাদার ফিশারী।টাঙ্গুয়ার হাওরের জীববৈচিত্র্যের মধ্যে অন্যতম হলো বিভিন্ন জাতের পাখি। স্থানীয় জাতের পাখি ছাড়াও শীতকালে, সুদূর সাইবেরিয়া থেকে আগত পরিযায়ী পাখিরও আবাস এই হাওর।শীত মৌসুমে অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙ্গে ব্যাপক পাখির আগমন ও অবস্থানে মুখরিত হয় টাঙ্গুয়ার হাওর।২০১৯ সালের পাখিশুমারি অনুযায়ী হাওর ও এর আশপাশের এলাকায় ২০৮ প্রজাতির পাখি দেখা গেছে।বিরল প্রজাতির প্যালাসেস ঈগল, বড় আকারের গ্রে কিংস্টর্ক সহ নানান প্রজাতির বিলপ্ত পাখি দেখা যায় এই হাওরে।স্থানীয় জাতের মধ্যে শকুন, পানকৌড়ি, বেগুনি কালেম, ডাহুক, বালিহাঁস, গাঙচিল, বক, সারস, কাক, শঙ্খ চিল, পাতি কুট ইত্যাদি পাখির সমাহারও বিস্ময়কর।এই হাওরে সব মিলিয়ে প্রায় ২৫০ প্রজাতির পাখি, ১৪০ প্রজাতির মাছ, ১২’র বেশি প্রজাতির ব্যাঙ, ১৫০-এর বেশি প্রজাতির সরীসৃপ এবং ১০০০-এরও বেশি প্রজাতির অমেরুদণ্ডী প্রাণীর আবাস রয়েছে।টাংগুয়ার হাওর এর প্রধান দুটি পাখির অভয়ারণ্য হল লেউচ্ছামারা ও বেরবেড়িয়ার বিল। টাঙ্গুয়ার হাওরের ঠিক মাঝখানটায় সুন্দর বিল হাতিরগাতা। এর চারপাশে রয়েছে বিলগুলো। শীতে হাতিরগাতার বেশিরভাগ এলাকাই শুকিয়ে যায়। কথিত আছে ব্রিটিশ শাসনামলে ইংরেজরা শীতে শুকিয়ে যাওয়া মাঠে হাতি চড়াতে আসতেন বলেই এই নাম পেয়েছে জায়গাটি।