ইতিহাস

সিলেট বিভাগের একটি জেলার নাম সুনামগঞ্জ। জেলার নামকরণ করা হয় মোগল সিপাহি সুনাম উদ্দিনের নামে। সুনামগঞ্জকে মহকুমায় উন্নিত করা হয় ১৮৭৭ খ্রিঃ আর জেলা হিসেবে উন্নিত করা হয় ১৯৮৪ সালে। সুনামগঞ্জ জেলার মোট আয়তন ৩৭৪৭.১৮ বর্গ কিলোমিটার। ২০১৪ সালের তথ্য মতে জেলার জনসংখ্যা ২৪৬৭৯৬৮ জন। জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ৬৬০ জন। জেলার মোট স্বাক্ষরতার হার ৯৫.৭৫% 
ভৌগোলিক সীমানাঃ পূর্বে সিলেট জেলা, পশ্চিমে নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ জেলা, উত্তরে খাসিয়া ও জয়ন্তিয়া পাহাড়, দক্ষিণে হবিগঞ্জ জেলা। 
সুনামগঞ্জ জেলায় ১১ টি উপজেলাঃ
১। সুনামগঞ্জ সদর        
২। দোয়ারাবাজার
৩। জগন্নাথপুর
৪। ছাতক
৫। বিশ্বম্ভরপুর
৬। দিরাই
৭। শাল্লা
৮। জামালগঞ্জ
৯। তাহিরপুর
১০। ধর্মপাশা
১১। দক্ষিণ সুনামগঞ্জ
সুনামগঞ্জ জেলার প্রথম উচ্চ বিদ্যালয় জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ১৮৮৭ সালে। ১৯১৫ সালে দিরাই উপজেলায় দিরাই উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯১৯ সালে জগন্নাথপুর উপজেলায় ব্রজনাথ উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। জেলার প্রথম কলেজ সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ।  প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ১৯৪৪ সালে।       
অর্থনীতিঃ  সুনামগঞ্জের অর্থনীতি কৃষি নির্ভর। সুনামগঞ্জ জেলার উৎপাদন করা ধানেই বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ। 
মাছ, পাথর,  ধান, সুনামগঞ্জেরপ্রাণ।
 সড়ক পথ, রেল পথ ও নদী পথঃ সুনামগঞ্জ-সিলেট মহাসড়ক হচ্ছে সুনামগঞ্জের সাথে যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম। তবে হ্যাঁ!  ছাতক-সুনামগঞ্জ আলাদা আঞ্চলিক রোড রয়েছে, জগন্নাথপুর-সুনামগঞ্জ আলাদা রোড রয়েছে ও তাহিরপুর-বিশ্বম্ভরপুর আলাদা ৩ টি আঞ্চলিক সড়ক রয়েছে জেলার সাথে যোগাযোগ রক্ষার জন্য। 
রেল পথঃ    সিলেট থেকে ছাতকে সরাসরি রেল যোগাযোগ রয়েছে। অদূর ভবিষ্যতে সারা জেলায় রেল যোগাযোগ স্থাপিত হবে বলে পরিকল্পনা রয়েছে। 
নদীপথঃ সিলেট-সুনামগঞ্জ ঘেঁষে বয়ে গেছে সুরমা নদী। প্রাচীন কাল থেকেই সুরমা নদীর মাধ্যমেই যোগাযোগ চলেছে সুনামগঞ্জবাসীর। 
দর্শনীয় স্থানঃ 

   বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিমের বাড়িঃসুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার ধল গ্রামেই অবস্থিত বাউল সম্রাট আব্দুল করিমের বাড়ি। সেই বাড়িতে আব্দুল করিমের স্মৃতি বিজড়িত। প্রতি বছর অনেক পর্যটক আসেন এক নজর দেখার জন্য।
শিমুলবাগানঃতাহিরপুর উপজেলায় অবস্থিত শিমুল বাগান। বসন্তে হয়ে উঠে পর্যটনের জন্য চমৎকার জায়গা। ফুলে ফুলে ছেয়ে  উঠে এই কৃত্রিম শিমুল বাগান। 
টাংগুয়ার হাওরঃ টাংগুয়ার হাওরে গেলে আপনি হারিয়ে যাবেন প্রকৃতির সাথে। দেখা মিলবে নানা প্রজাতির পাখির সাথে। আর হাওরে রয়েছে মাছের আনাগোনা। হাওরে যখন প্রবেশ করবেন তখন আর কুল কিনারা  খোঁজে পাবেন না।
শহীদ সিরাজ লেক বা নীলাদ্রিঃ    তাহিরপুর উপজেলার বড়ছড়ায় অবস্থিত নীলাদ্রি। তবে তার সঠিক নাম শহীদ সিরাজ লেক। লেকে রয়েছে নীল জল। পাহাড়ের  কুল ঘেঁষে সেই লেকটি। এই লেক আপনার ক্লান্তি দূর করে দিবে। প্রতিবছর অনেক পর্যটক আসেন ঐ শহীদ সিরাজ লেক এ  ।
 হাসন রাজার বাড়িঃসুনামগঞ্জ জেলা সদরেই অবস্থিত হাসন রাজার বাড়ি।  সেখানে গেলে আপনার আপনি দেখতে পাবেন হাসন রাজার ব্যবহৃত চেয়ার, পোশাক, তরবারি, গ্লাস,বাটি, নিজ হাতে লেখা চিঠি ইত্যাদি।  সারা বাড়িতেই রয়েছে হাসন রাজার সব স্মৃতিবিজড়িত জিনিসপত্র।
পর্নতীর্থ ধামঃ       হিন্দুদের অন্যতম পবিত্র তীর্থ হলো পর্নতীর্থ। এটি অদ্বৈত প্রভূ পন করে এনেছিলেন উনার মা কে স্নান করানোর জন্য। বারুণীর সময় এখানে তর্পণ ও পিন্ড দান করতে পারবেন। পবিত্র ধামটি যাদুকাটা নদীর তীরে অবস্থিত। 
পাইলগাঁও জমিদার বাড়িঃ সুনামগঞ্জ জেলা জগন্নাথপুর উপজেলার পাইলগাঁও গ্রামে রয়েছে জমিদার বাড়ি। সেখানে আপনার দৃষ্টি কাড়বে রাজ প্রাসাদ।  প্রাসাদের সামনেই রয়েছে পুকুর।
রাধারমণ দত্তের বাড়িঃ   জগন্নাথপুর এর কেশবপুর গ্রামে রয়েছে বৈষ্ণব কবি ও বাংলা ধামাইল গানের জনক রাধারমণ দত্তে বাড়ি। সেখানে উনার সমাধিও রয়েছে। তাছাড়া আরোও দর্শনীয় স্থান রয়েছে তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- শাহ আরেফিনের মাজার শরীফ, গৌরারং জমিদার বাড়ি, হাওলি জমিদার বাড়ি, ডলুরা স্মৃতিসৌধ, লাউরের গড়, সুখাইড় জমিদার বাড়ি, বাঁঁশতলা স্মৃতিসৌধ, দেখার হাওড় ইত্যাদি।            
 সুনামগঞ্জের গুণিজনঃ 
১। দুর্বিণ শাহ, মরমী কবি
২। সৈয়দ শাহনুর, সাহিত্যিক ও মরমী কবি
৩। হাসনরাজা, জমিদার ও মরমী কবি
৪। সৈয়দা শাহার বানু, ভাষা সৈনিক
৫। বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিম, বাউল সম্রাট
৬। আবদুস সামাদ আজাদ, বাংলাদেশের প্রথম পররাষ্ট্রমন্ত্রী
৭। কর্নেল আতাউল  গণি ওসমানী, সেনাবাহিনীর প্রধান সেনাপতি
৮। কাঁকন বিবি, বীরাঙ্গনা
৯। সুহাসিনী দাস, সাংবাদিক
১০। স্বর্গীয় সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, রাজনীতিবিদ।তাছাড়াও আরোও  গুণিজন রয়েছেন সুনামগঞ্জ জেলায়।