🚩দর্শনীয় স্থান: পান্ডার খালবাঁধ

👉অবস্থান: বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিজড়ানো দৃষ্টিনন্দন পান্ডার খালবাঁধ সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলার মান্নারগাওঁ ইউনিয়নের শ্যামল বাজার(বান্দের বাজার) সংলগ্নে অবস্থিত।

👉পান্ডার খালবাঁধ নির্মাণের ইতিহাস: স্বাধীন বাংলার প্রথম রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রথম কাজ ছিল পান্ডার খাল বাঁধ নির্মাণ। সুরমা নদীর বন্যার কবল থেকে ডেকার হাওর রক্ষার্থে দক্ষিণাঞ্চলকে রক্ষার জন্য তৎকালিন সময়ে এ বাঁধ নির্মিত হয়। সুরমা নদীর উপর এ বাঁধ দেওয়া হয়েছিল ১৯৭৪ সালের নভেম্বর মাসে। হাওর বাওর ও দোয়ারাবাজারের দক্ষিণাঞ্চলকে রক্ষা করতে সরকারি উদ্যোগে সর্বস্তরের জনগণের সম্পৃক্ততায় দীর্ঘ ৬ মাস মাটি কেটে বাঁধ দেন। কিন্তু ওই সময় প্রকৃতির স্রোতধারায় ধারার বিপরীতে অযোক্তিক বাঁধ দেওয়ায় এর বিরুদ্ধে উত্তরাঞ্চলের নেতৃস্থানীয় লোকজন তৃণমূল আন্দোলন করেছেন। এ নিয়ে দুই পাড়ের মানুষের মধ্যে হট্টগোল পর্যন্ত হয়েছে তৎকালীন সময়ে। বাঁধে বাধা দেওয়ার কারণে নেতৃস্থানীয় লোকদের মধ্যে আজমপুর গ্রামের মুক্তিযুদ্ধা এডভোকেট কাউসার আলম গ্রেফতার হন। পরে তৎকালিন পররাষ্ট মন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদ বাঁধ পরিদর্শন করেন। এসময় ছাতক দোয়ারা আসনের এমপি ছিলেন আবুল হাসনাত মোহাম্মদ আব্দুল হাই। এসময় স্থানীয় শ্রমিক সহ বৃহত্তর ময়মনসিংহ বি-বাড়িয়া ও কুমিল্লা সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মাটি কাটার শ্রমিকরা দেশে ছয় মাস পর্যন্ত মাটি কেটে পান্ডার খাল বাঁধ নির্মাণ করেছেন।
একাধারে অন্তত ১০,০০০ হাজার শ্রমিক তখন মাটির কাজ করেন। এসময় চন্ডিপুর গ্রাম থেকে মাটি কেটে বাঁধ নির্মাণ করা হয়। আজ অবধি ওই গ্রামে প্রায় ১০ একর ভূমিতে গভীর পুকুর রয়েছে। যা বর্তমানে মৎস্য খামার প্রতিষ্ঠা করে মাছ চাষ করা হচ্ছে। কথিত আছে নদীর ওই বিশাল বাঁধ নির্মাণে কাজের সময় জাপানসহ বিভিন্ন দেশের প্রকৌশলীরা উদ্যোক্তাদের পরামর্শ দিয়েছেন। স্থানীয়রা বলেছেন বাঁধ নির্মাণের সময় অনেক শ্রমিক মাটি কাটতে গিয়ে মাটিচাপা পড়ে মৃত্যু বরণ করেছেন। ৪০ কেজি আটার বিনিময়ে মাটি কেটেছেন তখন শ্রমিকরা। বাধ তদারকি করেছেন তৎকালীন সময়ের পান্ডারগাও ইউনিয়নে চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম, মান্নারগাঁও ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মদরিছ আলী, দোহালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল গনি, দোয়ারাবাজার ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মমিন, নরসিংপুর ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব হাবিবুর রহমান, দবির উদ্দিন প্রমুখ

👉উদ্বোধন: মাটি কাটার কাজ প্রথমে উদ্বোধন করেন তৎকালীন বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক আতাউল গনি ওসমানী। আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধন করেন বাংলার সিংহপুরুষ তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদ।

👉পরিদর্শন: পরিদর্শনের কথা ছিল বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কিন্তু ১৯৭৫ সালে তাকে স্বপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করায়, তিনি আর ওই বাঁধ পরিদর্শন করতে পারেননি। তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী আব্দুল মোমেন রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ একের পর এক ঐতিহাসিক ওই বাঁধ পরিদর্শন করেছেন।

👉যোগাযোগ ব্যবস্থা: সুনামগঞ্জ ও ছাতক থেকে সি এন জি এবং লেগুনা যোগে যাতায়াত করা যায়।

🔊পান্ডার খাল বাধের সারিবদ্ধ বৃক্ষরাজী আমাকে মনোমুগ্ধ করে তোলে।

লিখেছেনঃঃ অনিক দাস